নোট দিয়ে যায় চেনা


ভারতীয় অর্থনীতির ইতিহাসে নতুন চমক! বাতিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার প্রচলিত সব নোট। সাধু উদ্যোগ! বলছেন অনেকেই। অনেকেই শুনে বলছেন। অনেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থনে বলছেন। করণ ভারতে লেনদেন হওয়া কালো টাকা রুখতে এবং বাজারে ছড়িয়ে পড়া জাল ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের প্রভাবকে স্তব্ধ করে দিতেই এই উদ্যোগ। উদ্যোগ সাধু বলেই মনে করছেন- যাঁরা জীবনে কখনো কালোটাকা চোখে দেখেননি তাঁদের অধিকাংশই। অনেকেরই আশা এইবার কোটি কোটি কালোটাকা উদ্ধার হবে। অনেকেই জানাচ্ছেন বাজার থেকে জালটাকা সরে গেলেই মুদ্রাস্ফীতির হার কম হবে। আর সেই তত্বের উপর ভিত্তি করেই অধিকাংশ মানুষের আশা, যদি এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্তর হ্রাস পায়।


আবার অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এইভাবে যে এইযে কদিন ব্যংক ও এটিএম পরিষেবা বন্ধ থাকবে তাতে তাদের কোন অসুবিধা হবেই না। তাঁরা তো আর নগদটাকায় কারবার করেন না। এবং অনেকেই নিশ্চয়ই মুচকি মুচকি হাসছেন। যাঁদের হিসাব বহির্ভূত টাকা কখনোই নগদে থাকে না। কিংবা থাকলেও তা থাকে সুইস ব্যংকের নিশ্চিত ভল্টে। যেখানে ভারতীয় সুপ্রীমকোর্টের হাতও গিয়ে পৌঁছায় না। তাহলে কাঁদছেন কারা? এইটাই এখন লাখটাকার প্রশ্ন। ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল চেহারাটা দেখতে গেলে এখন খুঁজতে হবে তাঁদেরকেই।

তবে প্রশ্ন হলো এই যে যাঁরা এই খবরে কেঁদে ভাসাচ্ছেন, তাদের সংখ্যা শতাংশের হিসাবে কত? এবং আরও বড়ো প্রশ্ন হলো তাঁদের চোখের জলে কি দেশের সব কালো টাকাই ধুয়ে যাবে এবার?  বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার যে এক লক্ষ ছিয়াশী হাজার কোটি টাকা বিদেশ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করেছিল, এই উদ্যোগে কি সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের কোন সম্ভাবনা তৈরী হলো? এইসমস্ত প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মনে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সমস্যায় পড়েছেন তাঁরাই যাদের কাছে এই মুহূর্ত্তে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের সংখ্যাই বেশি। কিভাবে এতগুলো বাতিল অথচ কস্টার্জিত টাকা আবার সচল টকায় বদলিয়ে নেবেন সেই ভেবেই উৎকণ্ঠায় বহু মানুষ। দুদিন পর ব্যাংক খুললেই যে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে, বিষয়টি তেমনটি নয়। জানেন অনেকেই। বাতিল টাকাগুলিকে সরকারী ব্যাংক ও পোস্টঅফিসের কাউন্টার থেকে বদলিয়ে নেওয়ার যে যে নিয়মগুলি বেঁধে দেওয়া হয়েছে, সেগুলি মোটেই খুব একটা সুখকর নয়। এইরকম শতকোটির দেশে এই কাজটি যে মসৃন ভাবে হবে না সে কথা দেশবাসী মাত্রেই বুঝতে পারছেন।

জনগণকে যে কোন রকমের বিপদ ও কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বদলে, বিপদ ও কষ্টের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার এই রকমের উদ্যোগের বিরোধীতায় সরবও হয়েছেন অনেকে। বিশেষত সরকার বিরোধী পক্ষগুলি, যারা পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতার কেন্দ্রের চাবিকাঠিটি হস্তগত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তলায় তলায়। তাদের বক্তব্য জনগণের হয়রানি ঘটানো কোন জনদরদী সরকারের কাজ হতে পারে না। তাই বর্তমান সরকারের জনদরদী ভাবমূর্ত্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল মুখটিকে বেআব্রু করতেই তারা শান দিচ্ছেন যুক্তিতে। কিন্তু সে তো গেল নির্বাচনমুখী ধনতান্ত্রিক আর্থনীতির ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ণত্ব ষত্ব। সাধারণ মানুষেকে এই পরিস্থিতিতে ঠিক কি রকম অবস্থায় পড়তে হলো, সেটাই বরং দেখে নেওয়া যেতে পারে সবার আগে।

পরপর দুদিন ব্যাংক ও এটিএম পরিসেবা বন্ধ। দোকান বাজারে অচল ৫০০ ও ১০০০ টকার নোট। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছে না সহজে। বাসে ট্রেনে কোথাও ভাঙানো যাচ্ছে না এই টাকা। বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে এসেছেন তাদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। পকেট ভর্ত্তি ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকরা নোটের বাণ্ডিল নিয়েও সারাদিন না পারছেন খিদের মুখে খাবার কিনে খেতে, না পারছেন ঠিকমত গন্তব্যে গিয়ে পৌঁছাতে। আরও বেকায়দায় পড়েছেন তাঁরা যাঁরা অসুস্থ রুগী নিয়ে এদেশে এসেছেন বেসরকারী হাসপাতলে চিকিৎসা করাতে। জরুরী চিকিৎসাই গিয়েছে আটকিয়ে। বিদেশে এসে হঠাৎ এই বিপর্যয়ের সামনে পড়ে স্বভাবতঃই দিশেহারা সকলেই। চারিদিকে ১০০ টাকার নোটের জন্যে হাহাকার। মওকা বুঝে একদল মানুষে ১০০০ টাকার নোট ভাঙিয়ে দিচ্ছেন ৮০০ টাকায়। একটা নোটেই ২০০ টাকার লাভের মুখ দেখা। জরুরী ওষুধপত্তর কিনতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, কটা দিন এই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হলেও ক্রমে স্বাভাবিক হয়ে আসবে পরিস্থিতি। জনগণকে এই কষ্টটুকু মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জানানো হচ্ছে, কালোটাকার দৌরাত্ম রুখতে ও জালটাকা ঠেকাতে এই দওয়াইটিই জরুরী ছিল। এবং দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে এর নাকি সুদূরপ্রসারী ফল ফলবে। তাই আজকের কষ্ট কালকের আরাম। এই আশ্বাসই দেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। আর সেইটাকেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিনন্দিত করছেন কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকেরা।

আসুন এবার দেখে নেওয়া যাক, পরশু ব্যংক খুললে সাধারণ মানুষ কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে পারেন। বলা হচ্ছে, ব্যাংক খুললেই আপনার হাতে যত ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বা নোটের বাণ্ডিল থাকুক না কেন, আপনি আপনার প্রয়োজন মতোই কোন উর্দ্ধসীমা ছাড়াই আপনার ব্যাংক কিংবা পোস্ট অফিসের একাউন্টে তা জমা করে দিতে পারবেন। তবে যাঁদের কেওয়াইসি করা নাই, তাঁদের ক্ষেত্রে টাকা জমা দেওয়ার উর্দ্ধসীমা থাকছে। এবং সেটি ৫০ হাজার। এটি অবশ্যই একটি  ভালো কথা। আপনি এই অচল টাকাগুলির তোড়া থেকে মুক্তি পেলেন। কিন্তু নগদ সব টাকা ব্যাংকের একাউন্টে থাকলেই তো আর আপনার দিন চলবে না! আপনাকে সচল টাকা নগদে হাতে রাখতেই হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে ওষুধপত্র ইত্যাদি খাতে ব্যায় করার জন্যে। হ্যাঁ মহামান্য সরকার সেই জন্যে’ই আপনাকে এককালীন ১০ হাজার ও সারা সপ্তাহে মোট ২০ হাজার টাকা তুলতে দেবে আপনার নিজস্ব সেভিংস একাউন্ট থেকে। এবং এই নিয়মাবলী আগামী কিছুদিন বহাল থাকলেও পরে নতুন টাকার যোগান বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে অনেকটাই শিথীল হতে পারে। আর এই সুযোগ আপনি পাবেন আগামি ৩০শে ডিসেম্বর পর্য্যন্ত। তার পরেও আপনার অচল টাকাগুলি সচল করতে হলে একমাত্র রিজার্ভ ব্যাংকের অনুমোদিত শাখাতেই নির্দিষ্ট মুচলেকার বিনিময়ে একই সুবিধে আপনি পেতে পারেন সামনের বছরের ৩১শে মার্চ অব্দি।

কিন্তু যদি ধরা যাক, আপনার এখনো কোন ব্যাংক একাউন্টই নাই? তহলে কি উপায়? সেক্ষেত্রে যে কোন সরকারী ব্যাংক বা স্থানীয় পোস্ট আফিসে আপনি আপনার নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেখিয়ে এককালীন চার হাজার টাকা অব্দি এই বাতিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটগুলিকে সচল করে নিতে পারবেন পর্যায়ক্রমে। অর্থাৎ সরকারী দাবি মোতাবেক আপনার শাদা টাকা মার যাওয়ার কোন রাস্তা নাই। এবং সকলকেই সরকার থেকে আতঙ্কিত না হওয়ার আর্জি জানানো হচ্ছে ঠিক এই কারণেই। সেও ভালো কথা। কিন্তু তাহলে সরকারের বয়ান অনুযায়ী কারুরই কি আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নাই? ধরা যাক তোলাবাজির ৫০০ কি ১০০০ টাকার নোটের বাণ্ডিলগুলি যাদের ঘর আলো করে থাকে সাধারণত কিছুদিনের জন্যে, অর্থাৎ নোটগুলি যতক্ষণ না সম্পদে কিংবা ভোগ্যপণ্যে কি পরিসেবায় গোত্রান্তরিত হচ্ছে। তাঁদেরও কি আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নাই? সেরকমটাই কি ধরে নিতে হবে? আমাদের!

হ্যাঁ সে তোলাবাজীর টাকাই হোক আর ঘুষের টাকাই হোক, জুলুমবাজী করে হাতানো টাকাই হোক কিংবা চুরি জোচ্চোরি করে জোগাড় করা টাকার বাণ্ডিলই হোক, ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকার নোটের তোড়ায় থাকলে, সেই টাকা আজ থেকেই অচল কাগজে পরিণত হয়ে গেল কিন্তু। আপনি ঐ টাকা আর কোন কিছুইতেই ইনভেস্ট করতে পারবেন না। কিন্তু এমন নগদ নারায়ণ কতজনের বাড়িতে আছে এখন? আছে অনেকজনের বাড়িতেই আছে। কারণ দেশটার নাম ভারতবর্ষ। আর দেশটার নাম ভারতবর্ষ বলেই সেই নগদ নারায়ণেরও একটা বড়ো অংশ কোন না কোন ফাঁকফোঁকর দিয়ে যে আবারও শাদা টাকায় ভোল বদলিয়ে ফেলবে না, সে কথা কি জোর দিয়ে বলা যায়? যেখানে নির্বাচিত বিধায়কদেরকেও নগদ টাকায় রাজনীতির হাটে কেনা বেচা হয় অবাধে? তাই বিষয়টি যতটা সহজ বলে ভাবছেন অনেকে, আদৌ কিন্তু সেরকম নয়।

এবার দেখা যাক, তথাকথিত কালোটাকার বিরুদ্ধে সরকারী এই প্রতিষেধকের আওতার বাইরে রয়ে গেলেন কারা? এটা এখন প্রায় সকলেরই জানা যে ভারতীয় কালোটাকার সিংহ ভাগই দেশের বাইরে খাটে। বিশেষ করে সুইস ব্যাংকের সুরক্ষিত লকারে যা সুদে আসলে বাড়তেই থাকে। এই টাকাগুলির মালিকরা নিশ্চয়ই সরকারী ব্যাংকের টাকা ভাঙানোর লাইনে দাঁড়িয়ে ১০০ টাকায় কি নতুন ৫০০ কিংবা ২০০০ টাকায় সেই কালোটাকা ভাঙিয়ে নেবেন না! এদের বাইরে কালোটাকার পরবর্তী সিংহ ভাগ খাটে স্থায়ী সম্পদের লগ্নীতে। এই যেমন রিয়েলএস্টেটের ব্যবসায়ে। সেই সব ইনভেস্টমেন্টে কালোটাকার কার কত ভাগ তার হিসাব নিয়েও কেউ সরকারী দপ্তরে গিয়ে ধর্ণা দেবেন না নিশ্চয়ই। বাকি থাকল সোনা রূপো হীরেজহরতে লগ্নী করা কালোটাকার সিংহভাগ। সেই সব কালোসোনা নিশ্চয়ই কেউ সরকারের কোষাগারে জমা দিতেও ছুটবেন না। আর আমরা সবাই জানি, এইসব ক্ষেত্রেই কালোটাকার সিংহভাগ সুরক্ষিত ভাবে গচ্ছিত থাকে। যেখানে কোন সরকারী দাওয়াই গিয়ে পৌঁছায় না। ফলে কালোটাকা উদ্ধার- বাজারে চালু ৫০০ ও ১০০০ টাকা নোট বাতিল করে যে সম্ভব নয় সে কথা বুঝতে অর্থনীতির অআকখ না জানলেও চলে।

তাহলে বাকি থাকল জালটাকাকে অচল করে দেওয়ার যুক্তিটি। বেশ, সরকারী এই দওয়াইতে বাজারে চালু সব জালটাকা আটকিয়ে গেল। মেনে নেওয়া গেল সেকথাও। কিন্তু আমাদের স্মরণে থাকতে পারে, সাম্প্রতিক অতীতে বাজারে যখন ৫০০ টাকার নোট প্রথমে চালু হয়, তখনই সেই নোটের জাল সংস্করণে বাজার ছেয়ে গিয়েছিল। ফলে এই মাসে যে নতুন ৫০০ টাকার নোট বাজারে আসছে সেও যে রাতারাতি জাল করা হবে না, সে নিশ্চয়তা কে দেবে? লক্ষ্যনীয় বিষয়, গতকালের সরকারী বিবৃতিতেও কিন্তু সেরকম কোন নিশ্চয়তা দেওয়া হয় নি দেশবাসীকে। অনেকেই ভাবতে পারেন, এবার নিশ্চয়ই এমন আটঘাট বেঁধে নতুন নোট বাজারে ছাড়া হবে, যা জাল করা সহজ কাজ হবে না। কথায় বলে আশায় বাঁচে চাষা। অবশ্যই আমরাও সে কথা বিশ্বাস করতেই চাইব। কিন্তু আগের বারেও ৫০০ টাকার নোট বাজারে ছাড়ার সময় সরকার নিশ্চয়ই সেরকমই কোন ব্যবস্থা নিয়েছিল যাতে সেই নোট কেউ জাল করতে না পারে। কিন্তু তার ভবিষ্যৎ কি হলো সেটাই তো এখন ইতিহাস। ফলে সেই ইতিহাসেরও যে আবার পুনরাবৃত্তি হবে না সে কথা কে বলতে পারে। হলে তখনও কি আবার এই ভাবেই হঠাৎ বাতিল করে দেওয়া হবে বেশ কিছু নোট? এর শেষ কোথায়?

এবার আসা যাক পাকিস্তান ও চীন থেকে জালনোট ভারতের বাজারে ছড়িয়ে দিয়ে এদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের প্রচলিত  যুক্তিটিতে। যে যুক্তিতে তারা ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট জাল করে এদেশে ছড়িয়ে দিতে পারে, সেই একই যুক্তিতে ১০০ টাকার নোটও তো জাল করে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে, ভারতীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্যে। সরকারপ্রেমীরা যদিও যুক্তি দিচ্ছেন, না সেরকম হবে না কেন না, ১টা ৫০০ টাকার নোট জাল করে যে লাভ সম্ভব, ৫টা ১০০ টাকার নোট জাল করে সেই লাভ করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ তাদের কথা অনুযায়ী পাকিস্তান ও চীনে ১০০ টাকার জাল নোট তৈরীর সম্ভবানা নাই কারণ তাতে তাদের পরতায় পোষাবে না। কিন্তু দুটি বিদেশী রাষ্ট্র যখন পরিকল্পনা করে অপর একটি তৃতীয় রাষ্ট্রের সর্বনাশ করতে উঠে পড়ে লাগে, তখন তারা সেই ক্ষতিটাকেই সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করবে, না লাভের পরতার হিসাব করবে? এই সামান্য য়ুক্তিটুকুও অনেকেই শুনতে রাজী নন। কারণ কাউকে সমর্থন করার কিছু দায়বদ্ধতা তো থেকেই যায়। যেখানে সব যুক্তিই ধরতে গেলে চলে না। তাই না?

ফলত হঠাৎ বাজার থেকে সব ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট তুলে নিলেও কালোটাকা ও জালনোটের সমাধান হয়ে যাবে যারা ভাবছেন, তারা সত্যই আইভরী টাওয়ারে গদীয়ান। আর যারা সে কথা ভাবাচ্ছেন, তারা কিন্তু নির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনাকে সফল করতেই তা করছেন। তবে কি সেই পরিকল্পনা সেটি বুঝতে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

৯ই নভেম্বর’ ২০১৬

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত