যাঁরা পরিবর্তন চেয়েছিলেন

 


এর নামই কি পরিবর্তন? রাজ্যের সরকারী বিদ্যালয়গুলিতে নিযুক্ত শিক্ষকদের ভিতরে শত শত শিক্ষকের উপযুক্ত নিয়োগপত্র সহ সরকারী চাকরি প্রাপ্তির বিবিধ প্রামাণ্য নথিই নাকি নাই। অথচ তারা রাজ্যসরকারের শিক্ষাদপ্তর থেকে মাসে মাসে প্রাপ্য বেতন পেয়ে গিয়েছেন মসৃণ ভাবে। অবশ্যই সেটি সম্ভব হয়েছে সরকারী স্তরে ব্যাপক দুর্নীতির ফলেই। যার ফলে আবার উপযুক্ত চাকরি প্রার্থীরা চরম বঞ্চনার শিকার হয়ে রাজপথে পড়ে রয়েছেন। কিভাবে এই দুর্নীতির জাল বিস্তার করা হয়েছে। কাদের বদান্যতায় দুর্নীতির এই চক্র এত বছর রমরমিয়ে চলেছে। সেসব নিয়ে বিস্তর তর্ক এবং বিতর্ক ও আলাপ আলোচনা হয়ে গিয়েছে। হচ্ছে এবং হতে থাকবে। আজকের সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, আদালতে উপযুক্ত নথি হাজির করতে না পারায়। হাইকোর্ট ৫৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত যাঁদের চাকরি হাইকোর্টের নির্দেশে পূর্বেই বাতিল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে তাদেরকে একটা শেষ সুযোগ দেওয়া হয়। উপযুক্ত নথিপত্র দাখিল করে প্রাপ্ত চাকরির বৈধতা প্রমাণ করার। যে কাজে তাঁরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ চাকরি খোয়ালেন। এখন প্রশ্ন। অবৈধ পথে তাঁদেরকে এই চাকরি পাইয়ে দেওয়ার যে অনন্য কারবারটি পাতা হয়েছিল। হ্যাঁ, রাজ্য সরকারের উদ্যোগেই। তার সুবিচার কবে হবে? এমন নয়। রাজ্যসরকারকে ধোঁকা দিয়ে শত শত চাকরি প্রার্থী সরকারী বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকরে পদ দখল করে বসে পড়েছিল। এমনও নয় যে রাজ্য সরকার নিজের উদ্যোগেই এই সকল অবৈধ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছিল। ফলে গোটা অন্যায়ের মূল কারিগর যে রাজ্য সরকার। এই বিষয়টি অন্তত বিতর্কের উর্ধে। এখন বছরের পর বছর এমনভাবে দুর্নীতির সাথে সংযুক্ত একটি সরকারকে নির্বাচনের পর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ভাবে বিজয়ী করে ফিরিয়ে নিয়ে আসা রাজ্যবাসীও, কোনভাবেই দুর্নীতির এই অন্যায় ব্যবস্থার দায় ঝেড়ে ফেলতে পারে না। ফলত এটাও এখন জলের মতোনই পরিস্কার। রাজ্যবাসীর প্রচ্ছন্ন সমর্থনই দুর্নীতির এই জাল বিস্তারে রাজ্যসরকারকে আরও বেশি করে উৎসাহিত করে তুলেছে। যে রাজ্যে অবৈধ পথে সরকারী চাকরি পাওয়া যত সহজ হবে। সেই রাজ্যের মানুষের পক্ষে ততই বৈধ পথে সরকারী চাকরি পাওয়া কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠবে। সেকথা বলাই বাহুল্য। ফলে স্বেচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়। পশ্চিমবঙ্গে বৈধ পথ ছেড়ে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে অবৈধ পথেই এগো‌তে হবে। যদি না তাঁরা তাঁদের নাগরিক কর্তব্যের প্রতিফলন দেখাতে পারেন ইভিএম মেশিনে। আদালতের কাজ আদালত করছে। রাজ্যবাসীর কাজ রাজ্যবাসী করবেন কিনা। সেটাই শেষ কথা।


২৪শে ডিসেম্বর ২০২২

কপিরাইট সংরক্ষিত

ইউক্রেনে মিসাইল হানা

 



কথায় বলে ছুতোরের ঠুকঠাক। কামারের এক ঘা! আজ সকালে ইউক্রেনের প্রায় এক ডজন শহরে একযোগে মিসাইল হানা চালিয়েছে রুশ ফেডারেশন। এখন অব্দি পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে। অধিকাংশ মিসাইল হানার লক্ষ্যবস্তু ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলি। এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে। স্থানীয় সময় সাকাল আটটা নাগাদ, মিসাইল হানা শুরু হয়। কিয়েভের একটি পার্কে একটি মিসাইল আছড়ে পড়ায় বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। সংলগ্ন অঞ্চলে পার্ক করে রাখা এখাধিক যানবাহন ধ্বংস হয়ে যায়। একাধিক এপার্টমেন্টের দরজা জানলা উড়ে যায় বিস্ফোরণের জোরে। প্রাথমিক খবরে প্রকাশ। কিয়েভের মেয়রের উদ্ধৃতি অনুযায়ী আট জনের মৃত্যু ও ডজন খানেক মানুষ আহত হয়েছে। এই আক্রমণে গোটা ইউক্রেনের মোট হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি এখনো। এদিকে আজকেই প্রেসিডেন্ট পুতিন ন্যাশানাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকের শুরুতেই তিনি ইউক্রেনের বিগত কর্মকাণ্ডলিকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কাজ কর্মের সমগোত্র বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর এই বিবৃতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা। রাশিয়া চলমান ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’কে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধে উত্তীর্ণ করতে চলেছে। বিশেষত ডনবস অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে ইউক্রেন প্রতিদিন যেভাবে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি দোকানপাটের উপরে মার্কিন সমরাস্ত্রের সাহায্যে সামরিক হানা চালিয়েই চলেছে। তার একটা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া রুশ ফেডারেশনের অন্যতম দায়িত্ব। এদিকে গত শনিবারে রাশিয়ার মূল ভুখণ্ডের সাথে ক্রাইমিয়ার সংযোগকারী একমাত্র সেতুটিতে ইউক্রেনের গোয়েন্দা বাহিনী যেভাবে বিস্ফোরণ ঘঠিয়েছিল। তাতে অনেক বিশেষজ্ঞই রাশিয়ার কাছ থেকে এমনই মারাত্মক প্রতিক্রিয়া আশা করছিলেন। এখন দেখার, ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলের জরুরী ইনফ্রাস্ট্রাকচারগুলিকে সাময়িক ভাবে বিকল করে দেওয়ায়, ইউক্রেনের সমারিক বাহিনীর কমিউমিকেশন মবিলিটি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং রুশ সামরিক বাহিনী সেই সুযোগে নতুন করে কতটা অঞ্চল নিজেদের দখলে নিয়ে আসতে পারে। তারই সাথে আরও যে বিষয়টির উপরে বিশেষজ্ঞদের নজর রয়েছে। সেটি হলো। রাশিয়া কিন্তু প্রথম থেকেই ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে টেনে নিয়ে আসার চেষ্টা করে চলেছে। আজকের অতর্কিত এই হানায়। ইউক্রেনের ঘুম ভাঙে কিনা সেটাই দেখার। কিংবা আরও সঠিক ভাবে বললে। মার্কিন অপশক্তি ইউক্রেনের দিবানিদ্রা ভাঙতে দেয় কিনা আদৌ। এখনো রাশিয়ার সাথে আলোচনার টেবিলে বসলে। ইউক্রেন রাশিয়া সহ সন্নিহিত অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ফিরতে পারে। কিন্তু সেই প্রশ্ন একটাই। মার্কিন অপশক্তি তাদের অস্ত্রবিক্রী আর তেল বিক্রীর বিপুল মুনাফার এমন সোনার সময়কে মাঝপথেই শেষ হয়ে যেতে দেবে কিনা।


১০ অক্টোবর ২০২২


ক্রাইমিয়ার ব্রিজে বিস্ফোরণ

 


ক্রাইমিয়ার সাথে রাশিয়ার মূল ভুখণ্ডের সংযোগকারী সেতুটির উপরে আজকের বিস্ফোরণের পরে ইউক্রেনের বর্তমান সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক মিখাইল পডোলিয়াখ, বলেছেন। এ তো সবে শুরু। না, সবে শুরু নয়। ইউক্রেনের জেলেনস্কি’র সরকার লাগাতার ভাবেই রুশভাষী অঞ্চলগুলির সিভিলিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচারের উপরে সামরিক আঘাত হেনে চলেছে। বহুদিন ধরেই রাশিয়ার মূল ভুখণ্ডের সাথে ক্রাইমিয়ার সংযোগকারী একমাত্র সেতুটি ইউক্রেনের যুদ্ধবাজ সরকারের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু। এর আগেও একাধিকবার এই সেতুটি উড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী অতন্দ্র প্রহরায় ইউক্রেনের প্রচেষ্টাগুলিকে ব্যর্থ করতে সক্ষম হয়েছিল। ক্রাইমিয়ার ব্রিজের এই বিস্ফোরণে ইতিমধ্যেই তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। খবর পাওয়া যাচ্ছে। রুশ বিরোধী পক্ষগুলি আজকের বিস্ফোরণে উৎসব পালন শুরু করে দিয়েছে। অর্থাৎ, এটা পরিস্কার। রুশ বিরোধী শক্তি অক্ষ সামরিক লক্ষ্যবস্তুর থেকেও সাধারণ মানুষের জীবনকেই মূল লক্ষ্যবস্তু করে এগোচ্ছে। এটাই জেলেন্সকি সরকারের বৈশিষ্ট। এবং ডনবস অঞ্চলে লাগাতার ভাবে সাধারণ মানুষের উপরে মিসাইল হানা অব্যাহত। প্রতিদিনই গণ্ডায় গণ্ডায় মানুষের হতাহতের খবর শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন এখন একটাই। রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে চলেছে। অনেকেই অনুমান করছেন। রাশিয়া ইউক্রেনকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র ঘোষণা করতে পারে। সেক্ষেত্রে, বর্তমানে চলা বিশেষ সামরিক অভিযান সন্ত্রাসবিরোধী সমারিক অভিযানে উত্তীর্ণ হতে পারে। যখন রাশিয়ান সৈন্যবাহিনী আরও সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করতে পারবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। না হলে প্রতিদিনই ডনবস সহ রুশভাষী অঞ্চলগুলিতে সাধারণ মানুষের জীবনের কোন রকম নিরাপত্তা থাকবে না। মনে রাখতে হবে। ইউক্রেনের হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করা অঞ্চলগুলি কিন্তু বর্তমানে রাশিয়ার মূল ভুখণ্ডে পরিণত হয়ে গিয়েছে। ফলে রুশ সরকার তার সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঠিক কি পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।

 

৮ অক্টোবর ২২


এটোম বোমা

 


রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিউক্লিয়ার ওয়ার শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন জেলেন্সকি। টিভি সিরিয়ালের কমেডিয়ানের হাতে ন্যাটোর নিউক্লিয়ার অস্ত্র থাকলে এতক্ষণ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে যেত। সাবাশ জেলেন্সকি! ওয়েস্টার্ন মিডিয়ায় এই কমেডিয়ানকে নিয়ে গত আট নয় মাস যেভাবে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হয়েছে। তাতে অনেকেই এঁকে একবিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ নেতা কিংবা মানবের ভুমিকায় দেখতে শুরু করে দিয়েছেন। অনেকেরই ভাত ঘুমে জেলেন্সকি বিশ্বশান্তির নোবেল পুরস্কারের সাম্ভব্য বিজেতা। অনেকেই এঁকে গণতন্ত্র রক্ষার অগ্রদূত বলে মনে করে থাকেন। অনেকের দৃঢ় বিশ্বাস। এই কমেডিয়ান রাষ্ট্র প্রধান বিশ্ব গণতন্ত্র রক্ষায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়ছেন। কমেডিয়ানের হাসি হাসি শান্তশ্রী মুখ বহু নারীরও হৃদয় জিতে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। রণাঙ্গনে দাঁড়িয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই অভিনেতার ফ্যান ফলোয়ারও কম নয়। বহু প্রেমিকের চুলের স্টাইল থেকে হাঁটাচলায় এতদিনে জেলেন্সকি ধাঁচ এসে যাওয়ারও কথা। প্রেমিকাদের বুকেও আপন মনের মানুষকে জেলেন্সকি ধাঁচে দেখতে চাওয়াও বিচিত্র নয়। বহু মানুষ রয়েছেন। যাঁরা প্রতিদিন ওয়েস্টার্ন মিডিয়ায় চোখ লাগিয়ে বসে থাকেন। জেলেন্সকি'র মুখে নতুন নতুন ডায়লগ শোনার আশায়। এদিকে অভিনেতারও আবার প্রতিদিন নতুন নতুন স্ক্রিপ্ট মুখস্থে কোন ক্লান্তি নেই। এমন অক্লান্ত অভিনেতার খোঁজ পাওয়াও ভাগ্যের কথা। পেন্টাগনের কপাল ভালো। তারা সময় মতো একজন দক্ষ কমেডিয়ান হাতে পেয়ে গিয়েছিল। জেলেন্সকি তাদের আশার ভাঁড়ার উপচিয়ে পূর্ণ করে দিয়ে চলেছেন প্রতিদিন। তাতেই এই নবতম সংযোজন। না, রাশিয়া কবে কোথায় এট্যোম বোম ফেলবে। সেই আশায় অপেক্ষায় বসে থাকলে আরও এক শতাব্দি গড়িয়ে যেতে পারে। অনেকেরই তত ধৈর্য্য নেই। ফলে আজকের নবতম স্ক্রিপ্টে একেবারে নতুন চমক! কমেডিয়ান অবশেষে দাবি জানিয়েছেন। রাশিয়ার এট্যোম বোম ফেলার জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকার দরকার নাই। রাশিয়াতেই আগে, বলা নেই কওয়া নেই এট্যোম বোম নিক্ষেপ করতে হবে। একেবারে পর্দায় হিরোর মতো উচ্চস্বরে হুঁশিয়ারি! আর মুহুর্মুহু হাততালি। জেলেন্সকিকে নিয়ে যাঁরা এতদিন মাথায় করে নাচছিলেন। আজকে তাঁদের সেই নাচ কোন তাতা থৈথৈয়ের সুরে তাথৈ নৃত্যে মেতেছে। দেখার দরকার রয়েছে বইকি। 


এও এক সংক্রমক ব্যাধি

গত দুই বছরে আপনার পাড়ায় কতজন কোভিড রুগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে? গড়ে প্রতিদিন কতজন কোভিড সংক্রমিত হয়েছে? এবং সেই একই দুই বছরে পাড়ায় মোট কতজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে কোভিড-১৯ নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস? বেশ, আপনি বলবেন আবিশ্ব কোথাও কোভিড সংক্রমণ দুই বছর ধরে একটানা চলেনি। খুব সত্যি কথা। কিন্তু এই যে একটার পর একটা ঢেউ আর নিত্যনতুন ভ্যারিয়েন্টের মিছিল। সেই সেই ঢেউপর্বের হিসেবগুলিও কি আপনি রেখেছেন একটি দিনে জন্যেও?

সংস্কৃতি অপসংস্কৃতি


অনেকেই কলকাতাকে বঙ্গসংস্কৃতির পীঠস্থান বলে থাকেন। আরও অনেকে সেকথা বিশ্বাস করেন একান্ত আন্তরিক ভাবেই। এবং কলকাতার সাংস্কৃতিক দিগন্তের দিকে উন্মুখ আগ্রহে চেয়ে থাকেন আরও অনেকেই। এদের অনেকের ভিতরেই সংস্কৃতির সেই পীঠস্থানকে অনুসরণ করার প্রবণতাও দেখা যায়। সম্প্রতি কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বসন্তউৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীর খোলা পিঠে রবীন্দ্রসঙ্গীতের কথায় অশ্লীল শব্দের প্রয়োগ নিয়ে এঁরা সকলেই সাংস্কৃতিক অবক্ষয় নিয়ে আন্দোলিত হয়েছেন ঘরে বাইরে। অনেকেই সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রয়োগের দাবিতে মুখর। সন্দেহ নাই, রবীন্দ্রনাথের নামে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের হাতেই এই ভাবে রবীন্দ্রনাথকে ধর্ষিত হতে দেখলে সাধারণ রবীন্দ্র অনুরাগী মাত্রেই বিচলিত বোধ করবেন। করারই কথা। শুধু রবীন্দ্র অনুরাগী কেন, বঙ্গসংস্কৃতি প্রেমী যে কোন মানুষের ভিতরেই একটা বিরুদ্ধ প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য। হয়েওছে তাই। আবার সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের কৃতকর্মকে কেউ কেউ নিছকই বয়সের ছেলেমানুষি বলে উড়িয়ে দিতেও চাইছেন। সমাজে এর থেকেও অনেক বড়ো ও গভীরতর সমস্যা রয়েছে। এমন ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে অধিক মাতামাতি করতেও অনেকে গররাজি।

সর্বশক্তিমান মঙ্গলময় ঈশ্বর


আহা শুনলেই শান্তি। ভাবলেই তৃপ্তি। বিশ্বাসেই পূণ্য। প্রচারেই হাতে হাতে প্রসাদ লাভ। মহিমা অপার। ঈশ্বরের মহিমা নিয়ে অধিকাংশ মানুষেরই কোন সন্দেহ নাই। ভক্তির বরণডালায় সকলের অন্তরে ঈশ্বরের সিংহাসন। এই জগৎ এই সংসার নাকি তাঁরই সৃষ্টিলীলা। বিচিত্র জগৎ ও অনাদী অনন্তের ধারক বাহক এমনকি পালকও সেই সর্বশক্তিমান মঙ্গলময় ঈশ্বর। তাঁরই ইচ্ছায় আমাদের জন্ম মৃত্যু। বংশবিস্তার। ভালো কথা খুবই ভালো কথা। তা এই সর্বশক্তিমান মঙ্গলময় ঈশ্বরের অপার করুণায় সর্বযুগেই অধিকাংশ মানুষকে এত দুঃখ তাপ কষ্ট যন্ত্রণা অন্যায় অবিচার শোষণ বঞ্চনার মধ্যে দিয়ে কালাতিপাত করতে হয় কেন? না মহান ঈশ্বর দুঃখ কস্টের কষ্টিপাথর দিয়ে আমাদেরকে নাকি পরিশুদ্ধ করে কাছে টেনে নেন তাঁর কোলে। এটাই নাকি তাঁর কাছে পৌছাঁবার টিকিট। বাহঃ খুব ভালো ব্যবস্থা সন্দেহ নাই। তা সেই টিকিট কে কাটবে আর কে কাটবে না, সেটা অন্তত আমার আপনার ইচ্ছাধীন থাকলে ভালো হতো না কি

রাজনীতি ও বঙ্গসমাজ


আমাদের এই আধুনিক সমাজ ও সভ্যতায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রাজনীতির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব আমাদের জীবনকে প্রতি মুহূর্ত্তেই নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। আমাদের ইচ্ছে অনিচ্ছেকে তোয়াক্কা না করেই।এবং এরই মধ্যে আমাদেরকেই একটা ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হয় জীবনের প্রয়জনেই। বৃটিশ প্রবর্তিত গণতন্ত্রের সাংবিধানিক পরিকাঠামোয় জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গঠিত শাসনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনীতি একটি প্রক্রিয়ার নাম। যে প্রক্রিয়ায় জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের কাজকর্মের উপর জনগণের কোনো প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও সরকারের গৃহীত নীতিরীতিগুলি এবং সরকার বিরোধী শক্তিগুলির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে থাকে।

বাংলাদেশের হৃদয় হতে…..


“Major Zia, provisional Commander-in-Chief of the Bangladesh Liberation Army, hereby proclaims, on behalf of Sheikh Mujibur Rahman, the independence of Bangladesh.

I also declare, we have already framed a sovereign. legal government under Sheikh Mujibur Rahman which pledges to function as per law and the constitution. The new democratic Government is committed to a policy of non-alignment in international relations. It will seek friendship with all nations and strive for international peace. I appeal to all government to mobilize public opinion in their respective countries against the brutal genocide in Bangladesh.

The Government under Sheihk Mujibur Rahman is sovereign legal Government of Bangladesh and is entitled to recognition from all democratic nation of the world.”

[২৭ মার্চ ১৯৭১ কালুর ঘাটে স্থাপিত স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের পাঠ করা স্বাধীনতার ঘোষণা।]