যাঁরা পরিবর্তন চেয়েছিলেন

 


এর নামই কি পরিবর্তন? রাজ্যের সরকারী বিদ্যালয়গুলিতে নিযুক্ত শিক্ষকদের ভিতরে শত শত শিক্ষকের উপযুক্ত নিয়োগপত্র সহ সরকারী চাকরি প্রাপ্তির বিবিধ প্রামাণ্য নথিই নাকি নাই। অথচ তারা রাজ্যসরকারের শিক্ষাদপ্তর থেকে মাসে মাসে প্রাপ্য বেতন পেয়ে গিয়েছেন মসৃণ ভাবে। অবশ্যই সেটি সম্ভব হয়েছে সরকারী স্তরে ব্যাপক দুর্নীতির ফলেই। যার ফলে আবার উপযুক্ত চাকরি প্রার্থীরা চরম বঞ্চনার শিকার হয়ে রাজপথে পড়ে রয়েছেন। কিভাবে এই দুর্নীতির জাল বিস্তার করা হয়েছে। কাদের বদান্যতায় দুর্নীতির এই চক্র এত বছর রমরমিয়ে চলেছে। সেসব নিয়ে বিস্তর তর্ক এবং বিতর্ক ও আলাপ আলোচনা হয়ে গিয়েছে। হচ্ছে এবং হতে থাকবে। আজকের সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, আদালতে উপযুক্ত নথি হাজির করতে না পারায়। হাইকোর্ট ৫৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত যাঁদের চাকরি হাইকোর্টের নির্দেশে পূর্বেই বাতিল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে তাদেরকে একটা শেষ সুযোগ দেওয়া হয়। উপযুক্ত নথিপত্র দাখিল করে প্রাপ্ত চাকরির বৈধতা প্রমাণ করার। যে কাজে তাঁরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ চাকরি খোয়ালেন। এখন প্রশ্ন। অবৈধ পথে তাঁদেরকে এই চাকরি পাইয়ে দেওয়ার যে অনন্য কারবারটি পাতা হয়েছিল। হ্যাঁ, রাজ্য সরকারের উদ্যোগেই। তার সুবিচার কবে হবে? এমন নয়। রাজ্যসরকারকে ধোঁকা দিয়ে শত শত চাকরি প্রার্থী সরকারী বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকরে পদ দখল করে বসে পড়েছিল। এমনও নয় যে রাজ্য সরকার নিজের উদ্যোগেই এই সকল অবৈধ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছিল। ফলে গোটা অন্যায়ের মূল কারিগর যে রাজ্য সরকার। এই বিষয়টি অন্তত বিতর্কের উর্ধে। এখন বছরের পর বছর এমনভাবে দুর্নীতির সাথে সংযুক্ত একটি সরকারকে নির্বাচনের পর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ভাবে বিজয়ী করে ফিরিয়ে নিয়ে আসা রাজ্যবাসীও, কোনভাবেই দুর্নীতির এই অন্যায় ব্যবস্থার দায় ঝেড়ে ফেলতে পারে না। ফলত এটাও এখন জলের মতোনই পরিস্কার। রাজ্যবাসীর প্রচ্ছন্ন সমর্থনই দুর্নীতির এই জাল বিস্তারে রাজ্যসরকারকে আরও বেশি করে উৎসাহিত করে তুলেছে। যে রাজ্যে অবৈধ পথে সরকারী চাকরি পাওয়া যত সহজ হবে। সেই রাজ্যের মানুষের পক্ষে ততই বৈধ পথে সরকারী চাকরি পাওয়া কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠবে। সেকথা বলাই বাহুল্য। ফলে স্বেচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়। পশ্চিমবঙ্গে বৈধ পথ ছেড়ে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে অবৈধ পথেই এগো‌তে হবে। যদি না তাঁরা তাঁদের নাগরিক কর্তব্যের প্রতিফলন দেখাতে পারেন ইভিএম মেশিনে। আদালতের কাজ আদালত করছে। রাজ্যবাসীর কাজ রাজ্যবাসী করবেন কিনা। সেটাই শেষ কথা।


২৪শে ডিসেম্বর ২০২২

কপিরাইট সংরক্ষিত